আউটসোর্সিং-কি-হালাল

আউটসোর্সিং কি হালাল?

আউটসোর্সিং হালাল নাকি হারাম তা জানার আগেই জানতে হবে আউটসোর্সিং কি? নিজের কোনো কাজ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে না করিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে কারো কাছ ধেকে করিয়ে নেওয়াকে বলা হয় আউটসোর্সিং । আর অনলাইনের মাধ্যমে এই কাজ সম্পন্ন করাকে বলে ফ্রিল্যান্সিং।

এবার আসি আষল কথাই। আউটসোর্সিং করা হালাল নাকি বা হারাম ? এবং আউটসোর্সিং করা যাবে কিনা?

আউটসোর্সিং করা হালাল নাকি বা হারাম তা সম্পূর্ণ নির্রভর করে কাজের উপর। যে কাজ কাউকে দিয়ে করাবেন সে কাজটা হালাল কিনা তার উপর।

যেমন। যদি ধরা হয় আমার একটা ওয়েব সাইট প্রয়োজন ।আমি অনলাইনের মাধ্যমে কাউকে দিয়ে কাজটি করাবো। এবন আমি কোন বিষয়ের উপর ওয়েবসাইট করাচ্ছি তার ইপর হালাল হারাম নির্ভর করবে।

যদিও আ,রা যারা মুসলিম কম বেশি বুঝি কোন কাজ ভালা কোন কাজ মন্দ বা জায়েজ হবে না। তারপরও আরো পরিষ্কারভাবে আলোচনা করার চেষ্টা করছি।

নিন্মোক্ত শর্ত সাপেক্ষে আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা বৈধ হতে পারে।যেমনঃ

১. ইসলামিক দিক থেকে থেকে কাজটি হালাল হওয়া বা হারাম না হওয়া।

২. দেশের কোন আইন পরিপন্থী না হওয়া।

৩. মানুষ, সমাজ ও দেশের জন্য ক্ষতি কারক কোন কাজ হওয়া।

৪. অন্যের অধিকার খর্ব হয় এমন কাজ না হওয়া। (যেমন: কপিরাইট মেনে না চলা)।

৫. অর্থনৈতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সুদ, ঘুস বা কোন প্রকার দুর্নীতির আশ্রয় না নেওয়া।

৬. মিথ্যা, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও প্রতারণা মূলক না হওয়া ইত্যাদি।

যদিও এগুলো অনলাইন হোক বা অফলাইন হোক সর্বক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। কিন্তু অনলাইনে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ ক্ষেত্রে প্রতারণা ও অন্যায়-অপকর্মের সুযোগ বেশি থাকে।

❑ যেমনঃ:

অনলাইন ভিত্তিক সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ/বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করাঃ পণ্যটি যদি হালাল হয় তাহলে তা হালাল কিন্তু পণ্যটি হারাম হলে তার জন্য কাজ করা অবশ্যই হারাম হবে। যেমন: মদ-নেশা, বিড়ি-সিগারেট, মানব দেহের জন্য ক্ষতিকারক, খাঁটি পণ্যের লেভেল লাগানো নকল পণ্য, সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ পণ্য ইত্যাদি। এগুলো অনলাইনে বিক্রয় সেবা দিয়ে পয়সা কামানো হারাম।

এভাবে হালাল-হারামের বিষয়টি ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, SEO, নেটওয়ার্কিং ও তথ্যব্যবস্থা বা ইনফরমেশন সিস্টেম, মাল্টিমিডিয়া, গ্রাহকসেবা (Customer Service) ইত্যাদি যতপ্রকার অনলাইনে কাজ আছে সকল ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

মহান আল্লাহ তা’আলা যেন আামাদেরকে বৈধ পন্থায় কাজ করার  এবং সকল প্রকার হারাম ও অসদুপায় অবলম্বন থেকে হেফাজত রেখে অর্থ উপার্জন করার তাওফিক দান করেন।

আমীন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll Up