আমি-কি-পারব-ফ্রিল্রান্সিং-করতে

আমি কি পারব ফ্রিল্যান্সিং করতে?

ফ্রিল্যান্সিং কি সহজ ? নাকি কঠিন ? আমি কি পারব ? নাকি পারব না।


বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং এমন পর্যায়ে পৌছেছে যে, নিয়মিত কাজ হিসেবেই ব্যবহার করা হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং কাজ কে। কিন্তু কথা হচ্ছে যে অন্য পেশার ক্ষেত্রেও কি আপনি এরকম প্রশ্ন করতে পারেন? যে শিক্ষকতা কি সহজ ? কিংবা ডাক্তারী করা কি সহজ ? এধরনের প্রশ্ন কিন্তু করতে পারেন না। একজন শিক্ষক কিংবা ডাক্তারও ফ্রিল্যান্সার হতে পারেন। তাই ফ্রিল্যান্সিং বলতে অন্য নির্দিষ্ট একটি পেশা বুঝায় না। অন্য পেশা যদি কঠিন হয় তাহলে ফ্রিল্যান্সিংও অবশ্যই কঠিন। ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে কিছু ভুল ধারণার কারণে অনেকেই বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিংকে খুব সহজ মনে করছেন।


১. ফ্রিল্যান্সিং এ ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা ?

অনেক সময় দেখা যায় যে, কিছু ফ্রিল্যান্সার সফল হতে পারে না, এটা স্বাভাবিক। তাই এধরনের প্রশ্ন হতেই পারে যে, বিশ্বে যে হারে ফ্রিল্যান্সিং জনপ্রিয় হচ্ছে তারপরও এমন অবস্থা কেন ? কোন নিয়মে ভাল করা যায় তা বিশ্লেষনের অভাব নেই। অনেকে হয়ত তার সবগুলিই মেনে চেষ্টা করেছেন। তারপরও সফলতা পান নি। সাধারন যে কারণগুলির জন্য ব্যর্থতার দেখা যায় সে সম্পর্কে অনেক বরা হয়েছে। এর বাইরেও অদৃশ্য কিছু কারন অনেক সময় ব্যর্থতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।


২. ফ্রিল্যান্সারের শিক্ষা এবং প্রশিক্ষন প্রয়োজন আছে কি?

ফ্রিল্যান্সার হওয়ার জন্য কোনো প্রশিক্ষন প্রয়োজন হয় কিনা? কিংবা কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন হয় কিনা ? কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে আসতে হবে কি-না এরকম প্রশ্ন খুবই স্বাভাবিক। বাস্তবে বহু সফল ফ্রিল্যান্সারের দেখা যায়, যারা এখনও উচ্চশিক্ষা লাভ করেননি। একথা বলার অর্থ এই না যে, উচ্চশিক্ষা ডিগ্রী লাভ করা আর না করার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। ফ্রিল্যান্সিং এ কাজের অবিজ্ঞতাকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়, উচ্চ শিক্ষাকে নয়। দ্রুত কোন কাজের অভিজ্ঞতা অর্নের জন্য প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। কেননা নিজে নিজে বা একা একা ফ্রিল্যান্সিং এর সকল বিষয় জানা অনেক জটিল হয়ে পরে অনেকের কাছেই।


৩. ফ্রিল্যান্সারের আয়ের হিসেব কেমন হয়?

আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং করেন একথা কাউকে জানান, তাহলে নিশ্চিতভাবেই মনে করতে পারেন, পরবর্তী প্রশ্ন কি হবে?

আর তা হল- আয় কত ? তাই না?
প্রশ্নটা যেমন সরল, আপনার কাছে উত্তরটা ততটাই জটিল। আপনি কোনো মাসে হাজার ডলার আয় করেছেন তার মানে এই না যে, আপনি মাসে হাজার ডলার আয় করেন। পরবর্তী মাসে এই আয়ের কয়েক গুণও বেশি হতে পারে, আবার পরবতী কয়েক মাসে কোনো আয় নাও হতে পারে। ফ্রিল্যান্সিং এ সাধারনভাবে আয় হিসেব করা হয় ক্ষেত্র বিশেষে ঘন্টাপ্রতি, দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক ইত্যাদি নানাভাবে। একজন ফ্রিল্যান্সারকে এর সবগুলিই ব্যবহার করতে হয়, তারপরও আবার অনেক সময় এর কোনটির সাথেই পুরোপুরি এক হয় না।


৪. মরিয়া মনোভাব থেকেই ফ্রিল্যান্সিং পেশা

ফ্রিল্যান্সিং ছাড়া এখন আর কোন পথ নেই, … বর্তমানে এমন কথা বলার মত মানুষের অভাব নেই। ফ্রিল্যান্সিং এর প্রসার এবং জনপ্রিয়তা যতই বেশি হোক, তারপরও বাস্তবতা হচ্ছে এখনও ফ্রিল্যান্সিং মুল পেশা হিসেবে পরিচিত লাভ করে নি। যারা চাকরী পছন্দ করেন, তারা প্রথমে প্রচলিত চাকরীর কথাই ভাবেন এবং সেদিকেই চেষ্টা করেন প্রথমে। এরপর সেখানে যখন সমস্যা দেখা দেয়, তখন শোনা যায় এমন। ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার জন্য মরিয়া মনোভাব খুবই প্রয়োজন। অর্থাৎ এরকম মনে করা যে, আমাকে ফ্রিল্যান্সিং করতেই হবে, আমি অবশ্যই ফ্রিল্যান্সিং করব, আমি পারব ফ্রিল্যান্সিং করতে, এভাবে চেষ্টা না করলে সফল হওয়া যায় না। মরিয়া মনোভাব সবসময় ভাল ফলাফল দিবে যে, এমন কোন কথা বলছি না। আবার এটা কোন কোন সময় বিপদও কিন্তু ডেকে আনতে পারে।


৫. ফ্রিল্যান্সিং এ ভাল করার জন্য কি ধরনের কাজের দক্ষতা প্রয়োজন?

আপনি যদি গ্রাফিক্স ডিজাইনার হয়ে ফ্রিল্যান্সং করতে চান, তাহলে গ্রাফিক্স ডিজাইনে দক্ষতা থাকতে হবে। ওয়েভ ডিজাইনার হয়ে ফ্রিল্যান্সিং করতে চান, তাহলে ওয়েব ডিজাইনে দক্ষতা থাকতে হবে। প্রোগ্রামার হয়ে ফ্রিল্যান্সং করতে চান, তাহলে প্রোগ্রামিং এ দক্ষতা থাকতে হবে। কিন্তু একটিমাত্র বিষয়ে দক্ষতা নিয়ে ফ্রিল্যান্সিং এ সফলতার নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না অনেক সময়। বরং বাস্তবে এরকম অনেক দেখা যায় যে, যে কাজে দক্ষতা আছে সে কাজেই সফল হতে পারেছেন না। অন্যদিকে কোন কাজে কম দক্ষতা নিয়েও তুলনামুলক অনেকে ভাল করছেন।

যাই হোক, যদি আপনি এরকম মনে করেন যে, আপনাকে ফ্রিল্যান্সিং করতেই হবে। আর সেভাবে সিরিয়াস হয়ে চেষ্টা করেন এবং শেষ পর্য়ন্ত লেগে থাকেন, তাহলে বলতে পারি অবশ্যই আপনি পারবেন ফ্রিরল্যান্সিং করতে। ইনশা-আল্লাহ।

ধন্যবাদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *