ছাত্রজীবনই ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার উপযুক্ত সময়

ছাত্রজীবনই ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার উপযুক্ত সময়

আমরা প্রথমে ছাত্রজীবনে ফ্রিল্যান্সিং করার সময় টা বের করি। একজন ছাত্র/ছাত্রীর ২৪ ঘন্টা সময়ের ৬ ঘন্টা কলেজ বা ভার্সিটিতে যায়। ৬ ঘন্টা নিজ বাসায় পড়াশুনা, ৬ ঘন্টা ঘুম আর ৩ ঘন্টা খেলাধুলাসহ প্রয়োজনীয় যাতায়াত বা অন্যকিছু। তাহলে ৩ ঘন্টা চাইলেই বের করা সম্ভব।তবে হ্যাঁ, যদি কেউ চেষ্টা না করে, তাহলে এই ৩ ঘন্টা বের করা তো দূরের কথা ২৪ ঘন্টা সময় দিয়েও কোন কাজ হবে না।

ফ্রিল্যান্সিং করলে একজন ছা্ত্র/ছাত্রীর লাভ কি কিঃ

১. ইংরেজিতে দক্ষ হওয়া যায়:

ফ্রিল্যান্সিং করা মনে প্রতিদিন ইংরেজিতে কথা বলা। তাও আবার বিবিন্ন দেশের বায়ারদের সাথে । এতে ইংরেজির ভয়-ভীতি দূর হয়ে যায় । ইংরেজিতে কথা বলা এবং বুঝা পানির মত সহজ হয়ে যায় । স্কূল-কলেজে বাঙ্গালী শিক্ষকের কাছে বছরের পর বছর ক্লাস করলেও করলে আপনি যা ইংরেজি শিখবেন, মাত্র ৩ মাস বিদেশী বায়ারদের সাথে ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করলে তার চাইতে অনেক বেশী ইংরেজি শিখতে পারবেন । সেটাও সম্পূর্ণ প্র্যাকটিক্যালি ।

২. আপডেট স্কিলড্ হওয়া যায়ঃ

ফ্রিল্যান্সিং করতে গিয়ে একজন ছাত্র/ছাত্রী ওয়েব রিসার্চ করে যে কোন বিষয় নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তথ্য কালেকশন করা শিখে । এইভাবে ইন্টারনেট থেকে তথ্য কালেকশন করতে করতে একদিকে যেমন দক্ষ হয়ে ওঠা যায়, আপরদিকে যদি একাডেমিক নোটস তৈরী করে তাহলে পরীক্ষার খাতায়ও সে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সবচাইতে আপডেট ও বিস্তারিত তথ্য দিতে পারবে এবং সবার চাইতে বেশী নাম্বার পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশী থাকে ।

৩. খারাপ সঙ্গ বা অভ্যস থেকে দূরে থাকা যায়ঃ

একটা টিন এজ এর ছেলে/মেয়ে পড়াশুনার পাশাপাশি ভাল লাগার মত কিছু পায়না বলেই সে অসৎ সঙ্গে নিজের সর্বনাশ করে । বিভিন্ন আজেবাজে কাজে সংযুক্ত হয়। পক্ষান্তরে কোন ছাত্র/ছাত্রী যদি ফ্রিল্যান্সিং এর মজার জগতে একবার ঢুকতে পারে তবে এটাই তার সবচাইতে বেশী ভাল লাগবে । কারণ তার হাতের মুঠোতেই পুরো পৃথিবী । তাছাড়া প্রতি মাসে যখন পকেট খরচ আসবে তখন এটা মধুর মত লাগবে । খারাপ বন্ধু-বান্ধবের সাথে মিশে খারাপ কাজ করার কোন সুযোগই নেই । সুযোগ খোজার চেষ্টাও আর করবে না।

৪. চাকুরীর জন্য প্রস্তুত হওয়া সহজ হয়ঃ

পড়াশুনা শেষ করে যখন সে একাডেমিক সার্টফিকেট এবং এবং কয়েক বছরের বিদেশী বায়ার এর কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে কোন কোম্পানীতে এপ্লাই করবে তখন খুব সহজেই মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীতে জব হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাকে প্রাধান্য দিবে বেশী এইটাই স্বাভাবিক। করণ সে ইন্টারন্যাশন্যাল অভিজ্ঞতা সম্পন্ন । এন্ট্রি লেভেলে না সরাসরি মিড লেভেলে জয়েন করা সম্ভব । কারণ যে কোন দেশী-বিদেশী কোম্পানী তে কাজ করার এই অভিজ্ঞতাকেই মূল্যায়ন করা হয়, একাডেমিক সার্টিফিকেট কে নয়।

৫. দায়িত্বশীল ও প্রফেশনাল হওয়া যায়ঃ

ফ্রিল্যান্সিং করতে করতে একটা ছেলে দায়িত্ববোধ বেড়ে যায়,, প্রফেশনাল হয়ে ওঠে, সময়ের গুরত্ব বুঝতে শিখে এবং ভবিষ্যতের জন্য একজন পারফেক্ট মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে যেগুলো স্কুল-কলেজ থেকে কখনোই শিখা যায় না ।

ছাত্রজীবন শেষ করার পর একদিকে যেমন চাকুরীর জন্য তারাহুড়া থাকে অপরদিকে কর্মসংস্থানেরও তেমনই অভাব। না আছে অন্য কোন কাজ করার উপায়, না আছে চাকুরী। আবার এসময় স্কিল ডেভেলপ করার সময় দেওয়াও কঠিন হয়ে পরে। কারন ততদিনে পরিবারের দায়িত্ব এস পরে নিজের উপর। তাই স্কিল ডেভেলপ করার সময় আর টাকা-পয়সা কোনটাই থাকে না।

কিন্তু যদি একজন ছাত্র/ছাত্রী শিক্ষাজীবনেই একটু একটু করে অগ্রসর হয় তাহলে সে অনেক সময় পায় শেখার জন্য। আর এইখানে সার্টিফিকেট লাগে না তাই যে যখনই চাইবে শিখা মাত্রই ইনকাম শুরু করতে পারবে। বয়স কত বা শিক্ষাগত যোগ্যতা কি, কোন বায়ার জানতে চাই না।

আশা করি, বুঝতে পেরেছেন ছাত্রজীবনই ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার উপযুক্ত সময় কিনা।

ধন্যবাদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll Up