ফ্রিল্যান্সিং-করা-ভাল-হবে-কিনা

ফ্রিল্যান্সিং করা ভাল হবে কিনা?

ফ্রিল্যান্সিং করা ভাল হবে কিনা তা পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য কয়েকটি বিষয় আলোচনা করা যাক।

১. ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হতে ৫ বছর সময় লাগে । কিন্তু পাশ করার পর আরো কমক্ষে ৫ বছর অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয় ভল অবস্থানে যাওয়ার জন্য । অর্থৎ মোট ১০ বছর সময় লাগবে । এই ১০ বছর তাদেরকে অসম্ভব কঠিন পড়াশুনা ও পরিশ্রম করতে হয় ।

অথচ সেইভাবে মাত্র ৬ মাস অসম্ভব কঠিন পরিশ্রম করলে একজন মানুষ অনেক ডিপ লেভেলে যে কোন প্রফেশনাল কাজ শিখে বিদেশী যে কোন কোম্পানীতে ভাল বেতনে কাজ শুরু করতে পারবে ।

২. প্রমোশন: একজন ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ারের প্রমোশন হতে কমপক্ষে ৩ থেকে ৫ বছর লাগে কিন্তু একজন ফ্রিল্যান্সার মাত্র ৩ মাস পর পর প্রমোশন পায় ও বেতন বাড়তে থাকে ।

৩. একজন ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ারের চাকরি চলে গেলে আরেকটি ভাল চাকরী পেতে অনেক সময় লাগতে পারে কিন্তু একজন ফ্রিল্যান্সার যদি আজই একটা কোম্পানীকে থেকে চাকরী চলে যায় তবে দিনে দিনেই আর একটি চাকরীতে জয়েন করতে পারবেন । কারণ এখানে লাখ লাখ কোম্পানী । ফ্রিল্যান্সিং এ কোন বেকার সমস্যা নেই, কোন হতাশা নেই ।

৪. ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার রা চাকরী করে দেশের কোম্পানীতে কিন্তু ফ্রিল্যান্সার জব করে সরাসরি বিদেশী কোম্পানীতে, আন্তরজার্তিক মানের কোম্পানীতে ।

৫. বাংলাদেশের মধ্যে যদি কেউ ২০ বছর চাকরী করে তার এক্সপেরিয়েন্সের ভ্যালু বেশী হবে নাকি বিদেশী কোম্পানীতে জবের এক্সপেরিয়েন্স এর ভ্যালু বেশী ?

৬. দীর্ঘদিন বিদেশী কোম্পানীতে কাজ করলে এবং আস্থা ও নির্ভরশীলতার একটা সম্পর্ক তৈরী হলে বিদেশী কোম্পানীগুলো নিজেরাই স্পন্সর করে এবং সম্পূর্ণ তাদের খরচে ফ্রিল্যান্সারকে তাদের দেশে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে । আর বিদেশী কোম্পানীর রেফারেন্স থাকলে খুব সহজেই স্বপরিবারে গ্রীণকার্ড ও পি. আর পাওয়ার যায় । অন্যদিতে ডাক্তার- ইঞ্জিনিয়ারদের বিষয়টি অনেক কঠিন ।

৭. ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার চাকরীর শুরুতে বেতন পায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আর ফ্রিল্যান্সিং এর ক্ষেত্রে স্থায়ী চাকরীর বেতন হচ্ছে সর্বনিন্ম ১২০০ ডলার যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় এক লাখ টাকা । তাদের দেশের লোককে তারা বেতন দেয় ৩ থেকে ৪ হাজার ডলার ঐ একই কাজের জন্য আমাদেরকে বেতন দেয় মাত্র ১২০০ ডলার । ওদেরে হিসেবে খুবই কম কিন্তু টাকায় কনভার্ট হওয়ার পর আমাদের কাছে অনেক বেশী মনে হয় । তবে স্থায়ী চাকরী পাওয়ার আগে আপনাকে ২/৩ মাস টুক-টাক কাজ করে আপনার স্কীল দেখাতে হবে । সে ক্ষেতে প্রথম কয়েকমাস আপনার ইনকাম হবে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা কিন্তু স্থায়ী চাকরী পাওয়ার পরই আপনি লাখ টাকার কাছাকাছি বেতন পাবেন।

৮. বেতন দ্বিগুণ হতে একজন ডাক্তার বা ইজ্ঞিনিয়ারের কমপক্ষে ৩ থেকে ৪ বছর লাগবে । কিন্তু আপনি যদি ভাল কাজ দিতে পারেন তবে প্রতি ৩/৪ মাস পর পরই বেতন ডাবল হয় । আর যে কোন কোম্পানীতে জয়ে করে ভালভাবে কাজ শিখার পর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা দেখিতে ডাবল বেতনে অন্য কোম্পানীতে জাম্প করা যায ।

৯. ফ্রিল্যান্সারের জীবনে স্বাধীনতা আছে যখন ইচ্ছা যেখানে যাওয়া বা যা ইচ্ছা তা করার সুযোগ কিন্তু একজন ডাক্তার জানে না সকালে সূর্য কিভাবে উঠে ।

৮. ডাক্তারকে নিজের কাজ নিজেকেই করতে হয় । কিন্তু ফ্রিল্যান্সাররা একটা লেভেলে যাওয়ার পর বেশীরভাগ কাজ হেল্পিং হেন্ড দিয়ে করাতে পারে এবং নিজে রিলাক্স থাকতে পারে ।

৯. একজন ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার একসাথে শুধুমাত্র একটা চাকরীই করতে পারে কিন্তু এজন ফ্রিল্যান্সার একসাথে ২/৩টা কোম্পানীতে চাকরী করতে পারে এবং বেশীরভাগ কাজ তার তার টীম দিয়ে করিয়ে ফেলতে পারে ।

১০. সামাজিক অবদান: একজন ফ্রিল্যান্সার যখন অনেক কাজ পায় তখন নিজে এত কাজ করতে পারে না তখন তার অধীনে অনেক মানুষ নিয়োগ দিতে হয় এভাবে ফ্রিল্যান্সাররা দেশের বেকার সমস্যা সমাধানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবদার রেখে যাচ্ছেন ।

১১. সামাজিক সম্মান: যদি আপনার টাকা থাকে তবে দুনিয়া আপনাকে স্যালুট করবে । অনেক বড় ডিগ্রি নিয়ে অনেক বড় ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার পরও যদি আপনার পর্যাপ্ত টাকা না থাকে তবে কেউ আপনাকে মূল্যায়ন করবে না । আরেকটি বিষয় হল কোনটি বেশী সম্মানজনক – দেশর কোম্পানীতে চাকরী করা নাকি বিদেশের কোম্পানীতে ?

১২. হালাল ইনকাম: আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে একজন ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার কতটুকু সৎ থাকতে পারে বা থাকা সম্ভব আমার জানা নেই । কিন্তু একজন ফ্রিল্যান্সার সকল ইনকাম শতভাগ হালাল ।

১৩. স্থায়িত্ব: ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার যেইরকম স্থায়ী পেশা ফ্রিল্যান্সিং কি সেই রকম স্থায়ী হবে ? যদি আপনি প্রফেশনার প্র্যাকটিক্যাল কাজ শিখতে পারেন তবে আপনার পেশা লাইফটাইম সিকিউরড । বিদেশী কোম্পানীগুলো কখনো আপনার সার্টিফিকেট দেখবে না, আপনার কতবড় ডিগ্রী আছে সেই ডিগ্রী দেখে তারা কখনোই চাকরী দেয় না । তারা দেখ আপনার বাস্তব কাজের দক্ষতা । তাই যদি আপনি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে তবে আপনার অপেক্ষায় আছে পৃথিবীর লাখ লাখ কোম্পানী ।

যাহোক পরিশেষে এতটুকুই বলব কেউ যদি সত্যিকারের মানুষের সেবা করার জন্য ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে চায় তবে এর চাইতে ভাল পেশা আর হয় না । আর কেউ যদি বিলাশবহুল ও স্বাধীন জীবন চান, সম্পূর্ণ সৎভাবে ও হালাল ইনকাম করতে চান এবং বাংলাদেশের বেকার সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখতে চান তবে তার জন্য ফ্রিল্যান্সিং সর্বোত্তম ।

ধন্যবাদ । 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *