ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে এবং কোথা থেকে শুরু করবেন স্টেপ বাই স্টেপ পরিপূর্ণ গাইডলাইন

ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে এবং কোথা থেকে শুরু করবেন স্টেপ বাই স্টেপ পরিপূর্ণ গাইডলাইন

বর্তমানে নতুন ফ্রিল্যান্সারদের কাছে ফাইভার একটি সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয় মাইক্রো -ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস ।

আপনার যদি কোনো নির্দিষ্ট একটি কাজে দক্ষতা থাকলেই ফাইভার এ আপনি আপনার দক্ষতাকে সেবা বা ডিজিটাল পণ্য হিসেবে সেল করে আয় করতে পারবেন। 

ওয়েবসাইট এর লিঙ্ক : https://www.fiverr.com

কিভাবে? তা পরিষ্কারভাবে আলোচনা করা যাক….

ফাইভার এ মোট আট টি ক্যাটাগরি রয়েছে এবং প্রতিটি ক্যাটাগরির মধ্যে আবার অনেকগুলি সাব-ক্যাটাগরি রয়েছে।

​ফাইভার এর প্রধান আটটি ক্যাটাগরি হচ্ছে-

১. গ্রাফিক্স ডিজাইন

২. ডিজিটলি মার্কেটিং

৩. রাইটিং এবং ট্রান্সলেশন

৪. ভিডিও এবং এ্যানিমেশন

৫. মিউজিক এবং অডিও

৬. প্রোগ্রামিং এবং টেক

৭. বিজনেস

৮. ফান এবং লাইপ স্টাইল

স্টেপ বাই স্টেপ যেভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন

১. প্রতিটি ক্যাটেগরির মধ্যে থাকা সাব-ক্যাটাগরিও অনেক। এর মধ্যে থেকে আপনার ক্যাটাগরি নির্ধারন করে আপনাকে কাজ শুরু করতে হবে। 

২. যদি আপনার কোন দ্ক্ষতা না থাকে তাহলে আগে ফাইভার মার্কেটপ্লেস থেকে সবগুলো ক্যাটাগরি, সাব-ক্যাটাগরি সম্পর্কে রিসার্চ করে নির্ধারণ করুন আপনার পছন্দের কাজটি এইখানে সবগুলো কাজেরই মূল্য আছে। আর সবকাজই পাওয়া যায়। কিন্তু বিষয় হলো আপনার কোন কাজে ধৈর্য্য বেশী, সেই কাজটি রির্ধারণ করুন। এতে সহজে সাকসেস হতে পারবেন।

৩. আপনার পছন্দের ক্যাটাগরি নির্ধারণ করার পর সেই ক্যাটাগরির গিগ সার্চ করে প্রথম পেইজের প্রথম গিগগুলো ভালোভাবে পর্যালোচনা করুন। এরপর সে অনুযায়ী আপনার কাজের গিগ তৈরি করুন। গিগ সময় নিয়ে ধীরে ধীরে তৈরী করুন।

৪. আর পাবলিশ করার পর নিয়মিত বুঝে বুঝে সুন্দরভাবে বায়ার রিকুয়েস্ট সেন্ট করুন।

ফাইভার এর সুবিধা

  • এখানে এ্যাকাউন্ট তৈরি করা অনেক সহজ, নতুন যে কেউ খুব সহজেই এখানে এ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারবে। 
  • ফাইভার আপনার একটি স্টল বা দোকানের মত, যেখানে আপনি আপনার নির্ধারিত দক্ষতাকে সেবা হিসেবে সাজিয়ে রাখবেন, যেগুলিকে গিগ (Gig) বলা হয়।

    একটি গিগ মানে, একটি কাজ যেমন: ওয়েব ডিজাইন।

    মনে করুন আপনি ওয়েব ডিজাইন করতে পারেন। তাহলে আপনি এখানে আপনার এই সেবাটি বিক্রয় করতে পারেন, যার মূল্য হতে পারে (সর্বনিম্ন ৫ ডলার – সর্বোচ্চ ৯৯৫ ডলার)

    এই একটি সার্ভিসকেই আপনি আবার তিনটি প্যাকেজ (বেসিক , স্ট্যার্ন্ডাড ও প্রিমিয়াম)  করে সেল করতে পারবেন।
  • এখানে আপনি বায়ার রিকোয়েস্টের মাধ্যমেও কাজ করতে পারবেন।
  • আপনি পেওনিয়ার এ্যাকাউন্ট এর মাধ্যমে খুব সহজেই টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। আপনি বাংলাদেশের যে কোন ব্যাংক পেওনিয়র এ্যাকাউন্ট এর সাথে সংযুক্ত করে খুব সহজেই খুব সহজেই কোন প্রকার ফি ছাড়ায় টাকা হাতে নিতে পারবেন।
  • এছাড়া ফ্রিল্যান্সিং এর আয়ের ক্ষেত্রে শতকরা ৩% রেমিট্যান্স বোনাস প্রদান করছে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো।

আপনি যদি একটু সময় নিয়ে কাজ শিখে ফাইভারে কাজ করতে পারেন তাহলে এটিই হতে পারে আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরুর প্রথম ধাপ।

আমি মনে করি, যারা একদমই নতুন ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে চান, তাদের জন্য উপযুক্ত অনলাইন প্লাটফর্ম হচ্ছে ফাইভার (Fiverr)

কারণ….

১. সহজে এ্যাকাউন্ট তৈরি করা যায়।

২. সম্পূর্ণ ফ্রিতে কাজের আপ্লাই করা যায়।

৩. নিজের দক্ষতা অনুযায়ী যে কোন সার্ভিস প্রদান করা যায়।

৪. ছোট এবং অল্পপরিসরে যে কোন কাজ সহজে পাওয়া যায়।

৫. বাংলাদেশ থেকে সহজেই কোন ফি ছাড়াই টাকা উত্তোলন করা যায়।

আমি আশা করছি, যারা এখনও এই সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না যে, কিভাবে এবং কোথা থেকে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন, তারা অন্তত আর দেরি না করে, কাজ শুরু করতে পারেন।

আপনাদের যদি আমার এই পোস্টটি ভালো লেগে থাকে, দয়া করে আপনার সোশ্যাল নেটওয়ার্কে এটি​ শেয়ার করুন এবং নতুন দের কে জানতে সহযোগিতা করুন।

আপনার যে কোনো জিজ্ঞাসা থাকলে আপনি নিচে কমেন্ট করে বলতে পারেন, অথবা আমাদের ফেসবুক পেইজ এ মেসেজ করতে পারেন।

ধন্যবাদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll Up