ফ্রিল্যান্সিং-এর-জন্য-কোন-কাজ-শিখলে-পরদির-থেকেই-শুধু-ডলার-আর-ডলারj

কাল থেকেই শুধু ডলার আর ডলার

ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে আমরা যারা নতুন তারা ধরেই নেই যে, আজ থেকে শেখা শুরু করবো আর কাল থেকেই শুধু ডলার আসা শুরু করবে। কাজ শিখার আগেই কবে থেকে ডলার পাব ? কত ডলার পাব ? কত দিন লাগবে?………. ইত্যাদি ইত্যাদি।

এছাড়াও রয়েছে হাজারও প্রশ্ন। ভাইয়া কোন কাজ শিখলে দ্রত কাজ পাব ? কোন কাজে টাকা বেশি ইত্যাদি।

এখন কথা হচ্ছে কাজ শিখার আগেই যারা টাকার কথা ভাবছেন তাদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং না। ১৭/১৮ বা ২০ বছর পড়াশুনা করেও কোন কিছু যে মানুষটা করতে পারেনি সেই মানুষটাই ফ্রিল্যান্সিং শিখার আগেই টাকার হিসাব আর ডলারের হিসাব। আমরা অনেকেইে এমন ভাবে ভাবছি যেন ফ্রিল্যান্সিং কোন ডলারের গাছ। যে গাছের কাছে গেলেই শুধু ডলার পাব।

আর আমাদের এই মানসিকতাকে কাজে লাগিয়েই একদল টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে খুব সহজেেএক মাসেই হয়ে উঠুন গ্রাফিক্স ডিজাইনার। ঘরে বসেই ইনকাম করতে পারবেন ৩০-৪০ হাজার টাকা।এরকম। কিন্তু আমরা টেরই পাচ্ছি না।

তবে হ্যাঁ, পড়াশুনা ২০ বছর ভালো ভাবে করলেও চাকুরীর কোন নিশ্চয়তা হয়ত নেই মামা খালু ছাড়া। কিন্তু ফিল্যান্সিং এর কাজ ভালো ভাবে শিখতে পারলে কাজ নিশ্চিত ইনশা আল্লাহ।

আবার অনেকের প্রশ্ন হচ্ছে ভাইয়া আমি কি পারবো ? আমার দ্বারা কি হবে ? ইত্যাদি।

সব গুলো প্রশ্নেরই উত্তর ইনশা আল্লাহ পেয়ে যাবেন। তার আগে কিছু বাস্তব উদাহরন দেই। যদি কেই কাপড় সেরাই করা শিখৈ তাহলে তার কত দিন সময় লাগে ? মোটামোটি ২/৩ মাস আবার কেউ ১ মাসেই শিখতে পারে। এখন শিখার পরই তাকে কি আপনি কাপড় সেরাই করতে দিবেন? উত্তরে নিশ্চয় বরবেন, না। কেন? কারণ সে তো নতুন। এখন ও হাত পাকা হয় নাই। তার সেলাই যে কেমন হয়! এইসব।

এই সমস্যা সমাধানে সে কি করবে? নিশ্চয় সে পরাতুন বা কম দামি কাপড় বার বার সেলাই করে হাত পাকা করার চেষ্টা করবে। আর যখন ভালো হয়ে যাবে, তখন প্রমান দেখানোর পালা। সেই প্রমান ও কি মানুষ টাকা দিয়ে নিবে? মোটেও না। হয়ত কাইকে ফ্রিতে সেলাই করে দিতে হবে। তারপর মানুষ বুঝবে যে সে ভালো সেলাই পারে। আর তার কাছ থেকে কাপড় সেলাই করে নেওয়া যায়।

আর এই সম্পূর্ণ পথ পারি দিতে এক এক জনের এক এক রকম সময় লাগে যা কেই বলতে পারে না। ঠিক তেমনি ফ্রিল্যান্সিং এর ক্ষেত্রেও একই হিসাব। আপনি কত দিনে পারবেন সেটা একমাত্র আপনিই বলতে পারবেন। কোন কাজটা আপনার জন্য ভালো? কোজ দ্রুত শিখতে পারবেন? সেইটাও একমাত্র আপনিই বলতে পারেন। যদি এমন হয় যে কিছুই জানেন না তাহলে আগে কিছু কাজ সম্পর্কে ধারনা নিতে পারেন যারা ফ্রিল্যান্সিং করছে তাদের কাছে বা ইউটিউব থেকে। তবে ইউটিউবই সব চেয়ে ভালো।

এরপর বোঝার চেষ্টা করুন কোন কাজ আপনার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে, কোন কাজ সহজে বুঝতে পারছেন। কেননা মার্কেটে অনেক রকমের কাজ আছে। আর সব কাজেরেই প্রচুর চাহিদা। কিন্তু সবার সব কাজ ভালো লাগবেনা সবাই সব কাজ বুঝত্ওে পারবে না এইটাই স্বাভাবিক।

ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে আপনাকে অনেক বেশি সিরিয়াস হতে হবে। চাকুরীর চাইতেও বেশি।আর ফ্রিল্যান্সিংএর শুরুতে এবং কাজ শিখার সময় আপনার রুটিন এমন হতে হবে যে দৈনন্দিন কাজের তালিকাই ফ্রিল্যান্সিং ছারা আর কিছু নাই। এরকম সিরিযাস হতে পারলেই আপনি পারবেন ফ্রিল্যাান্সিং। আর এই সিরিয়াস যত বোশ হবেন তত দ্রুত কিছু করতে পারবেন।

কিন্তু আপনি চাকুরীও করবেন আবার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিংও করবেন। পড়াশুনাও ভালো করবেন আবার ফিল্যান্সিংও করবেন। প্রেমও করবেন ফ্রিল্যান্সিংও করবেন। তাহলে আমি বলছি আপনার জন্য ফ্রিল্যান্সিং না ।পড়াশুনার মাঝে এরকম অনেক সময় থাকে যে, ৩ মাস ৬ মাস বা ১ বছর শুধু ফলাফলের আসায় কেটে যায়। সেই সমই কাজে লাগান কিছু হবে।

অথবা মিনিমাম ৬ মাস সকল চিন্তা মাথা থেকে বাদ দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করার উদ্দ্যেশ্যে কাজ শিখুন।আর তারপর টাকার কথা ভাবুন।

এরপর হচ্ছে আপনি পারবেন কি পারবেন না। কিন্তু সেইটাও শুরু না করলে বলা সম্ভব না। আমরা পড়াশুনা যেমন বছরের পর পর বছর অনিশ্চিত হয়ে করি ঠিক তেমনই।

এখন কথা হচ্ছে আপনার কত দিন লাগবে? এই প্রশ্নের উত্তরে বলব, এইটা নির্ভর করবে আপনি রোজ কত ঘন্টা সময় দিবেন আর কত সিরিয়াস ভাবে দিবেন তার উপর। তবে সাধারনত প্রায় সব কোর্স হয়ে থাকে ৩ মাস, ৬ মাস বা ১ বছর। এছাড়া কোর্স শেষ করার পর কিছু কাজের স্যাম্পল রেডি করতে হবে। আর তার জন্রও সময় লাগবে অবশ্যই।

আবার অনেকেই ক্লিক করে টাকা ইনকাম করতে চায়। মোবাইল দিয়ে ইনকাম করতে চায়। কিন্তু আসলে এরকম কোন কাজ মার্কেটে নেই। যদিও কিছু অ্যাপস থেকে আয় করা যায় কিন্তু তা দিয়ে ইন্টারনেট খরচও হবে না। সময় টাই নষ্ট। তাছারা স্থায়ীও না।

ধন্যবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *